শিগগিরই খাবারের টেবিলে টের পাওয়া যাবে ইরানে হামলার প্রভাব

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ৩৯তম দিনে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সার সংকট তীব্র হয়েছে; যার সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায়।

Apr 7, 2026 - 12:06
 0  28
শিগগিরই খাবারের টেবিলে টের পাওয়া যাবে ইরানে হামলার প্রভাব
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা ৩৯ দিনের আগ্রাসনের জবাবে ইরান তাদের ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বের প্রধান জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার ভয়াবহ প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও বর্তমান সংকট

​বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির সমপরিমাণ অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় সারের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা আধুনিক কৃষির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত।

সারের বাজারে অস্থিরতা ও কৃষকদের সংকট

​সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম যুদ্ধের কারণে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে:

​নাইট্রোজেন: উৎপাদন ২০ শতাংশ কমেছে।

​ফসফেট: চীন রপ্তানি বন্ধ করায় বৈশ্বিক সরবরাহ ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

​পটাশিয়াম: রাশিয়া ও বেলারুশের ওপর নিষেধাজ্ঞায় এর সরবরাহ আগেই সীমিত ছিল।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র এক মাসে কিছু সারের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সার সংকটের কারণে কৃষকরা এখন ফলন কমাতে বা চাষের ধরন বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সামগ্রিক উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে।

পশুখাদ্য ও মাংসের দাম বৃদ্ধি

​ভুট্টা ও গমের উৎপাদন কমলে শুধু মানুষের খাবার নয়, পশুখাদ্যের সরবরাহও কমে যায়। এর ফলে গরুর মাংস, মুরগি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ২০১২ সালের খরা পরবর্তী অভিজ্ঞতার উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার মুরগির মাংসের দাম ২০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমল পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের দামও আকাশচুম্বী হওয়ার পথে।

নিম্নআয়ের মানুষের ওপর প্রভাব ও বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা

​জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) আশঙ্কা করছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে ভারত, ব্রাজিল ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে ফসলের উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ, যারা আয়ের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করেন, তাদের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার কেনা নিয়মিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সময়সীমা ও স্থায়িত্ব

​খামারের উৎপাদন খরচ বাড়লে পাইকারি বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে, তবে খুচরা বাজারে বা সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে ২ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। অর্থাৎ, যুদ্ধের দামামা এখন বাজলেও এর প্রকৃত আর্থিক দহন সাধারণ মানুষ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হাড়ে হাড়ে টের পাবেন এবং সংঘাত থামলেও এই উচ্চমূল্য দীর্ঘসময় স্থায়ী হতে পারে।