ইসলামাবাদে চলছে আলোচনা, লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনার মধ্যেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল; ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি বৈঠক।

Apr 11, 2026 - 22:56
 0  2
ইসলামাবাদে চলছে আলোচনা, লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল
×

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই মুখোমুখি বৈঠককে কেন্দ্র করে যখন বিশ্বজুড়ে আশার আলো দেখা দিচ্ছে, তখন লেবাননে এই অব্যাহত রক্তপাত আলোচনার সফলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

লেবাননে ভয়াবহ হামলা ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর আঘাত

​লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তেহফাতে ইসরায়েলি বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকায় এখনো ইসরায়েলি ড্রোন টহল দিচ্ছে। বর্বরতার চরমসীমায় পৌঁছে হামলায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে আসা এক প্যারামেডিকের ওপরও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহফার পাশাপাশি সিদ্দিকিন, তিবনিন এবং দিব্বিনেও ভারী বর্ষণের মতো গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি বৈঠক: একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক

​বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা সরাসরি টেবিলে বসেছেন। প্রথম দিকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ বা পরোক্ষ আলোচনা চললেও, দুই দেশ যখন অনুভব করেছে তারা নিজস্ব দাবিগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম, তখনই এই মুখোমুখি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কূটনীতিকদের মতে, সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়া মানেই হলো প্রক্রিয়াটি ইতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে।

আলোচনার সফলতা ও বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা

​এই আলোচনা কতটা সফল হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে এবং ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​যুদ্ধবিরতির মেয়াদ: আলোচনা সফল হলে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

​নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় পিষ্ট ইরানের সাধারণ মানুষ এই আলোচনার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখছেন।

​আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: যদি একটি সমঝোতা হয়, তবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঠেকানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানো সম্ভব হবে।

চর্তুমুখী চ্যালেঞ্জ

​আলোচনার টেবিলে যখন শান্তির কথা হচ্ছে, তখন মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন ইরানকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হবে। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই ঐতিহাসিক টেবিল বৈশ্বিক অস্থিরতা কমাতে পারে নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় কোনো যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।