​‘যুক্তরাষ্ট্র সৎ উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানে এসেছিল’: সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স ​

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; দাবি করেছেন ইরান শর্ত না মানায় চুক্তি সম্ভব হয়নি।

Apr 12, 2026 - 14:23
 0  4
​‘যুক্তরাষ্ট্র সৎ উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানে এসেছিল’: সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স ​
×

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত নমনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় এলেও ইরান শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) প্রতিনিধিদল নিয়ে পাকিস্তান ত্যাগের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনড় অবস্থান

​জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্ত অঙ্গীকার দেখতে চাই যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও সংগ্রহ করবে না যা দিয়ে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি।” তিনি দাবি করেন, ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তবে ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।

আলোচনার ফলাফল ও ইরানের ক্ষতি

​বৈঠকের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমরা ইরানিদের সাথে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, যা ইতিবাচক। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চুক্তি না হওয়ায় ইরানের ওপর বিদ্যমান চাপ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

জব্দকৃত সম্পদ ও অন্যান্য ইস্যু

​সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে জেডি ভ্যান্সের মতে, এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি যেখানে ইরানিরা মার্কিন শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের দাবিসহ বেশ কিছু নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি।

প্রতিনিধিদলের প্রস্থান ও ভবিষ্যৎ

​দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার স্নায়ুক্ষয়ী আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে থাকা প্রতিনিধিদলটিও পাকিস্তানের মাটি ছেড়েছেন। সরাসরি শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।