অমর একুশে বইমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। দুপুর ২টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানুন মেলার বিস্তারিত সময়সূচী ও আয়োজন।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
মেলার বিন্যাস ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান
এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিটের সংখ্যা ১,০১৮টি।
লিটল ম্যাগাজিন চত্বর: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শিশুচত্বর: এখানে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানের কারণে এবার বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ।
সময়সূচী ও বিশেষ আয়োজন
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর মেলায় নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
শিশুপ্রহর: প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর থাকবে।
রমজান ও তারাবি: পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ইবাদতের জন্য তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পুরস্কার ও বিশেষ সম্মাননা
গুণগত মান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বইগুলোর জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার এবং রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’, যা নতুন প্রকাশকদের গুণগত মানের বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য প্রদান করা হবে।
পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট’ বইমেলা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের বইমেলাকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন মেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্টল নির্মাণ থেকে শুরু করে খাবারের দোকান—সব ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বর্জন করে পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে।


