হাম ও সন্দেহজনক হামে এত শিশুর মৃত্যু ‘স্বাস্থ্যখাতে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে প্রকট করে তুলেছে’: পীর সাহেব চরমোনাই
দেশে হামের সংক্রমণে একের পর এক শিশু মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই; একে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
দেশে হাম ও সন্দেহজনক হামের সংক্রমণে আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও খামখেয়ালিপনার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের, যা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে প্রকট করে তুলেছে।
স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুর দশা ও অব্যবস্থাপনা
বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাতও আজ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার শিকার। তবে অন্য খাতের দুর্নীতির চেয়ে স্বাস্থ্যের দুর্নীতি বেশি ভয়াবহ, কারণ এখানে মানুষকে সরাসরি জীবন দিতে হয়।" তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়নি এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও আশঙ্কার চিত্র
সরকারী তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ দিনে দেশে হামে ২০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম নিয়ে আরও ১১৮ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। পীর সাহেব চরমোনাই আক্ষেপ করে বলেন, "বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এসে স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারভুক্ত একটি খাতে এমন ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবি
ইসলামী আন্দোলনের আমীর জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রকে আর কোনো শিশুর মৃত্যু দেখতে দেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন:
১. হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. পুরো স্বাস্থ্যখাতকে আমূল সংস্কার বা ঢেলে সাজানো।
৩. জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ কোনো ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্ব প্রদান করা।
বিবৃতির শেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যের মতো মানবাধিকারভুক্ত একটি খাতে রাষ্ট্রের এই চরম ব্যর্থতা জাতির জন্য একটি বড় কলঙ্ক।


