অপরাধীদের হাতে ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’: নতুন শঙ্কা
কলমের মতো দেখতে কিন্তু প্রাণঘাতী; রাজধানীতে যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্ধার হলো ‘পেনগান’। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।
দেখতে হুবহু একটি কলমের মতো। পকেটে বহন করা যায় অনায়াসে। কিন্তু এটি মূলত একটি প্রাণঘাতী ক্ষুদ্রাস্ত্র, যা ‘পেনগান’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি রাজধানীতে এক যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনায় এই বিশেষ অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশে সচরাচর না দেখা যাওয়া এই ছদ্মবেশী অস্ত্রটি এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুলির ঘটনা ও রহস্যময় অস্ত্র উদ্ধার
গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ছায়া তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সায়মন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। কাল্লুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি সিগারেটের প্যাকেট, যার ভেতর যন্ত্রাংশ খুলে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো জোড়া দিয়ে দেখা যায় এটি একটি অত্যাধুনিক ‘পেনগান’।
৮০ হাজারে কেনাবেচা ও মাদক সংশ্লিষ্টতা
গ্রেফতারকৃত কাল্লু ডিবিকে জানান, তারা এই অস্ত্রটি অন্য একজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। সেটি ২০ হাজার টাকা লাভে রাসেলের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। নয়াবাজারে ইয়াবা সেবনের এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে সেই পেনগান দিয়েই রাসেলকে গুলি করা হয়। ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) নাসিরুল ইসলাম বলেন, “ডিএমপিতে এমন অস্ত্র ব্যবহারের রেকর্ড আগে কখনো পাওয়া যায়নি। এটি কীভাবে দেশে এল, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছে একাধিক টিম।”
অস্ত্রটির উৎস নিয়ে ধারণা
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই পেনগানটি ভারত কিংবা পাকিস্তানের তৈরি। কলমের গায়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকায় এর সঠিক উৎস জানা কঠিন। তবে ডিবির অনুমান, খুলনা বা দেশের পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীরা এমন ছোট ও সহজে বহনযোগ্য অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে। সিগারেটের প্যাকেটে বা পকেটে সহজেই লুকিয়ে রাখা যায় বলে সাধারণ তল্লাশিতে এটি ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ মত
ছদ্মবেশী এই অস্ত্রের প্রবেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, “অপরাধীদের নিত্যনতুন অস্ত্রের সংযোজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হুমকির মুখে ফেলেছে। এমন বেপরোয়া অপরাধীদের দমনে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে এবং তাদের জামিন বাতিলের মতো আইনি পদক্ষেপ জরুরি।”
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনায় তাঁর ভাই ফয়সাল হোসেন একটি মামলা দায়ের করেছেন। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতরা রাসেলের পরিচিত হওয়ায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং দেশে আর কতগুলো এমন ‘পেনগান’ প্রবেশ করেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।


