সমীকরণের মারপ্যাঁচে সংরক্ষিত আসন: জামায়াতের ঘাড়ে শরিকদের ‘মিষ্টি’ চাপ

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ভাগ পেতে ১১ দলীয় জোটে জামায়াতের শরিকদের দাবি জোরালো হচ্ছে; ১৩টি আসনের বণ্টন নিয়ে জোটে চলছে জোর তৎপরতা।

Apr 8, 2026 - 16:07
 0  26
সমীকরণের মারপ্যাঁচে সংরক্ষিত আসন: জামায়াতের ঘাড়ে শরিকদের ‘মিষ্টি’ চাপ
×

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ভাগ পেতে অটল অবস্থানে রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যে জামায়াতের শরিক দলগুলো। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) নির্বাচন কমিশন ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জোটে থাকা শরিকদের দাবিদাওয়া ও তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জোটের আসন প্রাপ্তির সমীকরণ

​১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। আনুপাতিক হারে প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে দলগুলো একটি করে সংরক্ষিত আসন পাবে। সেই হিসাবে ১১ দলীয় ঐক্য মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে।

​জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি সাধারণ আসনের বিপরীতে সরাসরি ১১টি আসন পাবে।

​এনসিপি: ৬টি আসনের বিপরীতে ১টি আসন পাবে।

​বাকি ১টি আসন: এই অতিরিক্ত একটি আসন নিয়ে শরিকদের মধ্যে কাড়াকাড়ি চলছে।

শরিকদের দাবি ও জামায়াতের অবস্থান

​জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, শরিকদের দাবি আছে এবং তারা চাইলে কাউকে একটি আসন বেশিও দিতে পারেন। তবে সেটি আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত করা হবে। জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, যারা কোনো আসন পায়নি বা নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তাদের মধ্য থেকেও প্রত্যাশা রয়েছে।

দলভিত্তিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থী

​এনসিপি: ৬ আসনের বিপরীতে প্রাপ্ত একটি আসনে দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও ডা. মাহমুদা মিতুর নাম আলোচনায় আছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র সারজিস আলম।

​বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২ আসনে জয়ী হওয়া এই দলটি জামায়াতের উদ্বৃত্ত আসনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি আসন দাবি করছে।

​জাগপা: সাধারণ নির্বাচনে অংশ না নিলেও প্রচারণায় সক্রিয় থাকায় দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসনিয়া প্রধানকে একটি আসন দেওয়ার বিষয়ে জোটে আলোচনা আছে।

​লেবার পার্টি ও এলডিপি: নির্বাচনি প্রচারণায় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারাও সংরক্ষিত আসনে ভাগ পাওয়ার দাবি জানিয়েছে। লেবার পার্টির পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জহুরা খাতুন জুঁইয়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

​তফসিল ঘোষণার পর দলগুলোকে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা জমা দিতে হবে। জামায়াত ও তার শরিকদের মধ্যে এই আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হলে তা জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।