শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
দীর্ঘ দেড় বছরের নিবিড় ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুসহ তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, আমলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ মোট ৪২ জনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট:
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত সংস্থার দাখিল করা এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের একটি বিশেষ দল আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) প্রস্তুতের কাজ করছেন। ট্রাইব্যুনালের চলমান ছুটি শেষে আগামী ২১ জুলাই বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া মাত্রই ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের বিবরণ:
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর অবরুদ্ধ করে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে পরিচালিত যৌথ অভিযানের প্রেক্ষিতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। বিগত সরকারের পতনের প্রায় দেড় মাস পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দীর্ঘ তদন্তে এই বর্বরোচিত অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন নিহত হওয়ার অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থা চলতি মাসের (জুলাই) শুরুতে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এই মামলার অভিযুক্ত ৪২ জনের মধ্যে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী ও হেভিওয়েট ব্যক্তিসহ ইতোমধ্যে ৯ জন আসামি বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল:
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও নিশ্চিত করেছেন যে, শুধু ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডই নয়, বিগত জুলাই বিপ্লবের গণহত্যা ও জোরপূর্বক গুম-সংক্রান্ত অন্তত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এসব মামলাতেও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজন হলে অনতিবিলম্বে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল (৩য় ট্রাইব্যুনাল) গঠন করা হবে।


