ইরানকে ধ্বংসের হুমকির পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প: খুলছে হরমুজ প্রণালি
ইরান ধ্বংসের চূড়ান্ত হুমকির মুখে নাটকীয় মোড়; ১০ দফার প্রস্তাব পেয়ে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখতে এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার চরম হুমকির পর বিশ্বজুড়ে যখন পরমাণু যুদ্ধের আতঙ্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে হামলা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই স্বস্তিদায়ক ঘোষণা দেন।
দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি ও শর্ত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, “আমি আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সকল প্রকার বোমাবর্ষণ এবং হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি।” তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পেছনে তিনি একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। শর্তানুযায়ী, ইরানকে অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
ইরানের ১০ দফার প্রস্তাব ও আলোচনার ভিত্তি
সংঘাতের এই চরম মুহূর্তে এক কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা মনে করি এটি আলোচনার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর ভিত্তি।” তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রায় সবকটিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একমতে পৌঁছাতে পেরেছে। এই দুই সপ্তাহের সময়কাল মূলত একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
‘চুক্তির পথে বাধা অপসারিত’
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দুদেশের মধ্যকার বড় বাধাগুলো প্রায় কেটে গেছে। তিনি এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল সমস্যার সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছানো আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে এই সমঝোতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
বিশ্ববাজারে স্বস্তি
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। ৩৯ দিনের ভয়াবহ আগ্রাসন ও উত্তেজনার পর এই যুদ্ধবিরতিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন পরবর্তী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে।


