যুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক’ বিজয় দাবি ট্রাম্পের: দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; আলোচনায় চীনের ভূমিকার ইঙ্গিত।
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক বিজয়’ হিসেবে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ইরান যুদ্ধবিরতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানানোর পর সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ট্রাম্পের ‘শতভাগ’ বিজয়ের দাবি
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “এটি আমাদের সম্পূর্ণ এবং সর্বাত্মক বিজয়... একদম শতভাগ। এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।” উল্লেখ্য যে, এর আগেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি তুলে হরমজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ‘টোল’ বসানোর প্রস্তাব করেছিলেন।
শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে জানা যায়, গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানকে ১৫ পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। শুরুতে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করলে তিনি ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির উল্লেখসহ একটি সংশোধিত সংস্করণ পাঠান। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর মঙ্গলবার ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দেয়, যা ট্রাম্পও গ্রহণ করেছেন।
চীনকে নিয়ে ট্রাম্পের বিশেষ সমীকরণ
যুদ্ধবিরতির এই দুই সপ্তাহ সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হয়, তবে আগের দেওয়া হুমকি (অবকাঠামো ধ্বংস) কার্যকর করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প রহস্যময় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। এক্ষেত্রে চীন এগিয়ে আসতে পারে। আমার বিশ্বাস, এই দুই সপ্তাহে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে চীন বড় ধরনের সহযোগিতা করবে।”
হুমকির রাজনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
যুদ্ধবিরতির ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান সমঝোতায় না এলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘চরম চাপ’ প্রয়োগের কৌশলের কারণেই তেহরান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিশ্ব দুই সপ্তাহের এই অস্থায়ী শান্তির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।


