ইরানের সঙ্গে ‘১০ দফা’ চুক্তির খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে কথিত ‘১০ দফা’ চুক্তির খসড়াকে মিথ্যা ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘১০ দফা’ চুক্তির খসড়া নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প এই প্রতিবেদনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার ঘোষণা দেন।
প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ আখ্যা
সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ১০ দফার গোপন চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এই প্রতিবেদনে বাস্তব কোনো আলোচনার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং এর মাধ্যমে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, একটি বাস্তব চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা সদস্যরা ইরানের চারপাশেই অবস্থান করবে।
১০ দফা প্রস্তাবের বিষয়বস্তু
গণমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত ওই ‘১০ দফা’ প্রস্তাবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত আকারে চালু রাখার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। চুক্তি মানা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অভূতপূর্ব মাত্রার’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
প্রধান লক্ষ্য ও হরমুজ প্রণালি সংকট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য দুটি—প্রথমত, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা এবং দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল এখনো প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে।
কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির খবর অস্বীকার করে ট্রাম্প মূলত ইরানকে আরও বড় কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।


