ইরানের নেতাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে শুধু আলোচনার জন্য: ট্রাম্প
ইসলামাবাদ আলোচনার আগে ইরানকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; দাবি করলেন আলোচনার জন্যই ইরানের নেতারা বেঁচে আছেন, ব্যর্থ হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার হুমকি।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে ইরানকে নজিরবিহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের হাতে কোনো বিকল্প পথ নেই এবং আলোচনার স্বার্থেই দেশটির নেতাদের এখনও বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘২৪ ঘণ্টার’ চরমপত্র
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পুনরায় ইরানের ওপর হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি কঠোর স্বরে বলেন, “ইরানের হাতে বর্তমানে কোনো কার্ড নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখছে। আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারব।”
আলোচনার টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্ব
ইসলামাবাদে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মার্কিন দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান শর্ত ও পাল্টাপাল্টি দাবি
আলোচনায় মূলত চারটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পাবে:
১. ইরানের ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর।
২. হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা।
৩. আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা।
৪. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা।
এর বিপরীতে ইরান দাবি করেছে, তাদের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা তেলের কোটি কোটি ডলার ফেরত দিতে হবে।
গালিবাফের শর্ত ও অনিশ্চয়তা
ইরান অবশ্য এখনই আলোচনার টেবিলে বসতে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “আলোচনা শুরুর আগে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে পড়া সম্পদ অবমুক্ত করা। এই দুটি কাজ না হলে আলোচনা শুরু হবে না।”
হোয়াইট হাউসের আশাবাদ
ইরানের সদিচ্ছা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সংশয় প্রকাশ করলেও হোয়াইট হাউস একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে প্রশাসন বিশ্বাস করে। তবে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা আলোচনার পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


