ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: আলোচনায় ইতিবাচক মোড়
ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক বৈঠকের আগে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলার সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের শর্তে এই সমঝোতা।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে কাতারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটিকে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ এবং কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি ও সম্পদের বিনিময়
ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের’ সঙ্গে সম্পর্কিত। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো বাধা ছাড়া জাহাজ চলাচল করতে দেবে—এমন শর্তেই মার্কিনিরা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল ও গ্যাস বিক্রির বিশাল অংকের অর্থ বিভিন্ন দেশে আটকে ছিল।
ঘালিবাফের শর্ত ও মার্কিন সাড়া
এর আগে শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত তাঁরা ইসলামাবাদে আলোচনায় বসবেন না। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মূলত ঘালিবাফের দেওয়া কঠিন শর্তের একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধের পটভূমি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যৌথ হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়া এখনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। গতকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পুনরায় ইরানে হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সম্পদ ছাড়ার এই খবরটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।


