প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গলা কেটে হত্যা: রংপুরে চাঞ্চল্য
রংপুরে মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরে মহানগর যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা।
রংপুরে মাদক কারবার নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে রাকিব হাসান নামে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়া মোড় এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিচয় ও দলীয় পদ
নিহত রাকিব হাসান নগরীর কাছনা এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি রংপুর মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাঁতীপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. মমিন (৪২) ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ রিকশাযোগে এসে মমিন ও তাঁর দলবল রাকিবকে ঘিরে ধরে এবং প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাকিব আগে মমিনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এমনকি এর আগে মমিনের দলবল রাকিবের পা ভেঙে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, “বিকেল ৩টার দিকে আমার ছেলে বাসা থেকে বের হয়। সাড়ে ৪টার দিকে খবর পাই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।” মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আজিজুর শেখ বিপ্লব এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে মাদক কারবার নিয়ে পূর্ব বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। মমিন নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে।


