ট্রাম্পের ১০ দিনের আল্টিমেটাম: পালটা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি না করলে হামলার হুমকি। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান। বাড়ছে যুদ্ধ উত্তেজনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আসার জন্য ইরানকে মাত্র ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে 'ভয়াবহ পরিণতির' হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গাজার 'বোর্ড অব পিস' সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প এই চরমপত্র (আল্টিমেটাম) জারি করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ১০ দিনের মধ্যে ইরানকে আলোচনার টেবিলে এসে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের কড়া জবাব
ট্রাম্পের এই হুমকির পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী দূত সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রান্ত হলে তারা চুপ করে থাকবে না।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়:
"যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করা হবে। এই উত্তেজনার যাবতীয় দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।"
মার্কিন হামলার পরিকল্পনা: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
এদিকে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে 'সীমিত পরিসরে' হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
হামলার সম্ভাব্য ধাপগুলো হলো:
প্রথম ধাপ: ইরানের সরকারি ভবন ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা। এর মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করা।
দ্বিতীয় ধাপ: সীমিত হামলায় কাজ না হলে এবং ইরান শর্ত মেনে না নিলে হামলার পরিধি বাড়ানো হবে। এই পর্যায়ের লক্ষ্য হবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরকারের পতন ঘটানো।
বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম এবং ইরানের পাল্টা অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ১০ দিন পুরো বিশ্বের নজর থাকবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকে।


