আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্তে চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ২৭ মে (ঈদুল আজহার আগের দিন) ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গত ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম গাফিলতি ও অবহেলার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে:
অনুপযুক্ত ভবন ও কক্ষ: যে ভবনটিতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, তা হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।
অক্সিজেনের ঘাটতি ও ভেন্টিলেশন বিপর্যয়: ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ ছিল। কোনো স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন (বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা) না থাকায় সেখানে তীব্র অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত মানুষের ভিড়: মাত্র ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল।
চিকিৎসক ও জরুরি সেবার অনুপস্থিতি: নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও হাসপাতালে কোনো সক্রিয় 'ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স' ছিল না। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, ওই সংকটাপন্ন সময়ে সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের (নার্স) চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।
এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শোকজের জবাব পাওয়ার পর তা সন্তোষজনক না হওয়ায় আজ প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালো অধিদপ্তর।


