ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পরিচয়ে ভুয়া প্রচার! আলোচিত ব্যক্তি সদস্য নন বলে দাবি দলটির
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পরিচয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আলোচিত ব্যক্তি সংগঠনের কোনো প্রার্থী, সদস্য বা দায়িত্বশীল নন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার: ভাইরাল ব্যক্তি তাদের কেউ নন বলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রচারিত এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
দলটির নেতৃবৃন্দের দাবি, আলোচিত ওই ব্যক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো মনোনীত প্রার্থী নন; এমনকি তিনি সংগঠনের সদস্য কিংবা কোনো দায়িত্বশীল পদের সাথেও যুক্ত নন।
➤ যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি (ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্য):
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল সূত্রের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি ভিডিওর থাম্বনেইলে এক ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে দাবি করা হয়। তবে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী। ফলে ওই প্রচারণায় উপস্থাপিত ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ অসত্য বলে দলটির নেতারা জানান।
ভাইরাল হওয়া ওই ব্যক্তিকে অনেকে ‘মুফতী আনোয়ার’ নামে অভিহিত করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলটির প্রার্থী তালিকায় ‘মুফতী আনোয়ার’ নামে কারও অস্তিত্ব ছিল না।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বলে জানা যায় উক্ত নির্বাচনে ‘আনোয়ার’ নামে তাঁদের মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করেছিলেন। তাঁরা হলেন:
➤ মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভী (দিনাজপুর-৪)
➤ মাওলানা আনোয়ার হোসেন (পাবনা-৪)
➤ আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন (ঢাকা-১৮)
➤ মাওলানা আনোয়ার হোসেন (মৌলভীবাজার-১)
➤ আলহাজ্ব আনোয়ার খান** (কুষ্টিয়া-৪)
দলীয় নেতাদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবির সাথে উল্লিখিত তাঁদের বৈধ প্রার্থীদের চেহারা বা পরিচয়ের কোনো মিল নেই।
◑ আসল পরিচয় ও অবস্থান:
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় তথ্যমতে নেতারা জানান, ভাইরাল হওয়া ওই ব্যক্তির বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তিনি কখনো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন না বা সাধারণ সদস্যপদও গ্রহণ করেননি। রাজনৈতিক কোনো বিশেষ সুবিধা আদায় বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এমন ভুয়া পরিচয় ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে দলটির নেতারা ধারণা করছেন।
◑ সচেতনতার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতাদের:
নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও বহুবার অসত্য তথ্য ও ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের মনগড়া তথ্য রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
এ অবস্থায় সাইবার স্পেসে কোনো খবর বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে সংশ্লিষ্ট দল, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মূলধারার গণমাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই (Fact-check) করার জন্য দেশবাসীর প্রতি ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতারা আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রুখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।


