একাধিক বিয়ের আগে কিছু বিষয় ভাবা জরুরি

ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও তাতে রয়েছে নিখুঁত ন্যায়বিচার ও আর্থিক স্বচ্ছলতার কঠোর শর্ত। একাধিক বিয়ের আগে শরিয়ত ও প্রচলিত আইনের কোন বিষয়গুলো জানা জরুরি, তা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।

Jul 21, 2026 - 20:17
 0  4
একাধিক বিয়ের আগে কিছু বিষয় ভাবা জরুরি
×

সমাজে বিভিন্ন প্রয়োজনে একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ উঠে এলেও ইসলামী শরিয়ত ও প্রচলিত আইনে এতে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়মকানুন আরোপ করা হয়েছে। আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক বিয়ে নিছক কোনো ভোগবিলাস বা অধিকারের বিষয় নয়; বরং এটি অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব ও জবাবদিহির আমানত।

​পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে চারজন পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্ত্রীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে না পারার সামান্যতম আশঙ্কা থাকলেও এক বিয়েতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

​হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যার দুজন স্ত্রী রয়েছে, কিন্তু সে একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে শরীরের এক পাশ হেলে পড়া (পঙ্গু) অবস্থায় উপস্থিত হবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ২১৩৩)।

​ইসলামী আইন ও প্রচলিত পারিবারিক আইনের আলোকে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় নিশ্চিত করা আবশ্যক—

১. আর্থিক ও শারীরিক পূর্ণ সক্ষমতা:

প্রতিটি স্ত্রীর আলাদা খোরপোশ, চিকিৎসা, পোশাক ও জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর ওপর ফরজ। আর্থিক টানাটানির মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।

২. স্ত্রীদের মধ্যে নিখুঁত সাম্য ও ন্যায়বিচার:

সময় বণ্টন, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং বাসস্থানের মানে কোনো স্ত্রীর প্রতি সামান্যতম বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব করা কবিরা গুনাহ।

৩. পৃথক বাসস্থানের নিশ্চয়তা:

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রীরা যদি স্বেচ্ছায় একসঙ্গে থাকতে রাজি না হন, তবে প্রত্যেকের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ও নিরাপদ বাসস্থানের সুব্যবস্থা করা স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

৪. প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে নৈতিক আচরণ:

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি শরিয়তের মূল শর্ত না হলেও তাঁর সাথে প্রতারণা করা, সত্য গোপন রাখা বা তাকে মানসিক কষ্টে ফেলা ইসলামের নৈতিকতার পরিপন্থী।

৫. প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন মানার বাধ্যবাধকতা:

বাংলাদেশে ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বা একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ও আইনি নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইনি শাস্তির যোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মতে, আর্থিক সামর্থ্য, নিখুঁত ন্যায়বিচার, মানসিক পরিপক্কতা এবং আল্লাহভীতি না থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কল্যাণের পরিবর্তে ভয়াবহ অশান্তি ও সংকট ডেকে আনতে পারে। তাই আবেগপ্রবণ না হয়ে ইমানী দায়িত্ব ও কঠোর জবাবদিহিতার কথা স্মরণ রেখে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।