কলাপাড়ায় স্কুল জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফি ও তাঁর পরিবারে বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফিসহ তাঁর বাবা-ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

Jul 22, 2026 - 13:24
 0  3
কলাপাড়ায় স্কুল জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফি ও তাঁর পরিবারে বিরুদ্ধে মামলা
×

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​গতকাল রোববার (২১ জুলাই) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক অভিযোগটি সরাসরি আমলে নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণী ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফিসহ তাঁর পরিবার ও সহযোগীরা ভেকু (খননযন্ত্র), ট্রলি, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগের জমিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমির মাটি কেটে পুকুর ও সীমানার আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালান।

​বিদ্যালয়ের জমি দখলের খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম অন্য পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে সরাসরি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান শিক্ষকসহ সঙ্গে থাকা শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কি, চরম গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

​মামলায় আরও দাবি করা হয়, বাধা অমান্য করে অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত (প্রায় ৬ শতাংশ) জমির আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের মাটি ট্রলিতে করে সরিয়ে নেন এবং সেখানে ইট ও খোয়া ফেলে নিজস্ব ব্যবহারের রাস্তা তৈরি করেন। এতে বিদ্যালয়ের সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আসামির বক্তব্য

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, "রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি নিষ্কণ্টকভাবে ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তোয়াক্কা করেননি। পরবর্তীতে থানায় গেলে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। আমরা বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।"

​তবে নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, "বিতর্কিত জমিটির আসল মালিকেরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। তাঁদের নিকট থেকে আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছি। জমির মূল মালিকপক্ষ জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার পরই কেবল সেখানে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। আমার উদীয়মান রাজনৈতিক পরিচিতি নষ্ট করতেই এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে।"

​কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "আদালত মামলাটি রুজু করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে কলাপাড়া থানার ওসির নিকট নির্দেশনামা পাঠিয়েছেন।"