রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় নাকি বাইরের কেউ হবেন, তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Jul 25, 2026 - 19:59
 0  6
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
×

রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—বিএনপির দলীয় নাকি বাইরের কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব, তা সম্পূর্ণভাবে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

​তিনি স্পষ্ট জানান, সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইনি বিধান অনুসরণ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।  

​আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৪তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দলীয় ফোরামেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

​রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে নতুন কাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে দলের মহাসচিব ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের দল আলোচনা করবে, স্ট্যান্ডিং কমিটির (স্থায়ী কমিটি) আনুষ্ঠানিক মিটিং হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। বৈঠকের পরই বিএনপির সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।”  

​এ সময় নতুন রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের নাম ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের প্রশ্নটি এড়িয়ে যান তিনি। তিনি মন্তব্য করেন, “পার্টির হাইকম্যান্ড তথা দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।”  

​'রাজনৈতিক তর্ক ছেড়ে গবেষণায় ও কাজে মনোনিবেশের তাগিদ'

​এর আগে আরডিএ সম্মেলনে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে গবেষণ খাতে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর তীব্র তাগিদ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

  

​তিনি বলেন, “রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও অহেতুক তর্কের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে বাস্তবমুখী কাজের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। দেশে বাৎসরিক বাজেটের একটি বড় অংশ নানা অপচয়ে চলে গেলেও গবেষণার মতো অত্যন্ত মৌলিক জায়গায় প্রয়োজনীয় অর্থ মেলে না। এটি পরিবর্তন করতে হবে।”

  

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি

​কৃষিপণ্যের উপযুক্ত বাজারজাতকরণ সুনিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “পল্লী উন্নয়ন বলতে কেবল রাস্তাঘাট, সেতু আর বাড়িঘর তৈরি বোঝায় না; আসল উন্নয়ন হলো গ্রামীণ কৃষকের ঘরে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। সঠিক সংরক্ষণাগার ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার অভাবে আমাদের দেশের কৃষকরা নিজেদের রক্ত পানি করা ফসলের উপযুক্ত দাম পান না। এ সংকট নিরসনে কৃষি গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”  

​তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে সরকারের খাতায় বাস্তবে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প দৃশ্যমান না থাকলেও কাগজে-কলমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ সময় তরুণ প্রজন্মকে কেবল চাকরি বা সরকারি ঠিকাদারির পেছনে না ঘুরে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।  

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বগুড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য, পল্লী উন্নয়ন একাডেমির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষ গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।