শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: রাহুল গান্ধী
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
চলমান শিক্ষা সংকট ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না বিরোধী জোট।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় সরকারের প্রতি এই আলটিমেটাম প্রদান করেন।
সংসদ ভবনে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ
আজ লোকসভায় নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি বলে তীব্র অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের পর তাঁকে নিজের ও বিরোধী পক্ষের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করতে দেওয়া হয়নি।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি মূল দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেন:
শিক্ষামন্ত্রীর বরখাস্ত: প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মে ব্যর্থতার দায়ে দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরাতে হবে।
হামলাকারীদের বিচার: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের আইনি আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা: শিক্ষাব্যবস্থার অচল অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
রাহুল গান্ধী দৃঢতার সাথে বলেন, “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার আগে আমরা সরকারের সাথে কোনো প্রকার সংলাপ বা সমঝোতায় যাব না। এটাই বিরোধী শিবিরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
যন্তর মন্তরে আমরণ আন্দোলন ও সিজেপি’র অবস্থান
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের ধর্না কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ ২৬ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা অনশন ভাঙার খবরে তাঁরা স্বস্তিবোধ করছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ ছাড়া বিকল্প কোনো প্রস্তাব তাঁরা গ্রহণ করবেন না। জানা গেছে, চলমান ইস্যু সমাধানে সিজেপি’র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতের কনস্টিটিউশন ক্লাবে দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবে।


