প্রাথমিক শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ে বদলির কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেন উপজেলা পর্যায়ে বদলি করা হচ্ছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কেন কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর এক মিলনায়তনে ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ব্যাখ্যার কথা তুলে ধরেন।
‘মনে হয় যেন সব স্কুলই ঢাকায়!’:
শিক্ষকদের অতিরিক্ত ঢাকা-প্রীতির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষকই সুযোগ পেলে ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চান। শিক্ষকদের এই বিপুল আবেদন ও আগ্রহ দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, যেন দেশের সমস্ত বিদ্যালয়ই ঢাকা শহরে অবস্থিত! এহেন পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বদলি প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই কার্যক্রমটি উপজেলা পর্যায়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষকরা সবাই ঢাকায় আসার জন্য জোর তদবির ও আবেদন করায় মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফাইলের স্তূপ জমে যায়। এর ফলে তিনি নিজে এবং প্রতিমন্ত্রীর দাপ্তরিক রুটিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে ও বদলি ব্যবস্থা সহজীকরণে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মতবিনিময় সভার তথ্য:
‘অধিকতর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের করণীয়’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা সুনিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।


