ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে টানা বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET/নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন্দ্রিক তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রহ্লাদ যোশীকে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানানো হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষামন্ত্রীর নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি আগের মন্ত্রণালয়ও সামলে যাবেন।
আন্দোলন ও পদত্যাগের নেপথ্য
৫৮ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিনের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের মুখে আজ পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কোনো 'দেশবিরোধী শক্তি' যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি নিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে যা লেখেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লেখেন, “চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কারের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সব সময় বিশ্বাস করে এসেছি—একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই উন্নত জাতি গঠনের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও আন্দোলন প্রত্যাহার
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঠিক তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো মানার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ায় 'সদিচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছেন।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সামাল দিতে ভারতের শিক্ষা খাতে ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই রদবদলকে বেশ বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


