শাপলা হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু সোমবার: চিফ প্রসিকিউটর
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হচ্ছে ২৭ জুলাই। তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
২০১৩ সালের ঐতিহাসিক ও আলোচিত মতিঝিল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।
'অধিকার'-এর তালিকায় ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় উদ্ধার
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শাপলা চত্বরের সেই ভয়াল রাতের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব ও গুরুত্বের সাথে গভীর তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ সে সময় শাপলা চত্বরের অভিযানে নিহত ৬১ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জনের পূর্ণাঙ্গ নাম ও নিখুঁত পরিচয় উদ্ধার ও যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।”
ভয়াল সেই রাতের স্মৃতি ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে ১৩ দফা দাবিতে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হয়। ওই দিন রাত ১১টার পর পুরো মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরপর পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে ‘অপারেশন সিকিউরড নাইট’ নামে চারদিক থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় মারাত্মক সাউন্ড গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি ও বেপরোয়া লাঠিচার্জের মাধ্যমে বিশাল মহাসমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। সে রাতের অভিযানে ব্যাপকভাবে প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ ওঠে।
দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারের আশ্বাস
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল সব পক্ষ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক বিচার উপহার দিতে শতভাগ বদ্ধপরিকর, যেন দেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া এই বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় পর হলেও প্রকৃত ন্যায়বিচার লাভ করে।


