সংস্কারের প্রকৃত ভিত্তি ছিল আমাদের প্রণীত আইন’: ড. আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, তার দায়িত্বকালে প্রণীত আইনগুলোই ছিল প্রকৃত সংস্কারের ভিত্তি; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন নিয়ে পদত্যাগের হুমকির তথ্য প্রকাশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে প্রণয়ন করা বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশই ছিল দেশের প্রকৃত সংস্কারের মূল ভিত্তি। এসব আইনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংস্কারের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক
ড. আসিফ নজরুল তাঁর স্ট্যাটাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে:
মানবাধিকার ও গুমসংক্রান্ত আইন: গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইনি কাঠামো।
বিচার বিভাগ: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন এবং উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত স্বচ্ছ নীতিমালা।
দুর্নীতি দমন: দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করতে নতুন আইনি সংস্কার।
অন্যান্য খাত: রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অধ্যাদেশ।
প্রতিকূলতা ও পদত্যাগের হুমকি
সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, এসব আইন প্রণয়ন করা সহজ ছিল না। সরকারের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাকে এমনকি পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইন মন্ত্রণালয়ের একটি দক্ষ দল দিনরাত গবেষণা ও খসড়া সংশোধনের মাধ্যমে এই সংস্কারগুলো চূড়ান্ত করেছিল।
‘অধ্যাদেশের সরকার’ বনাম বর্তমান বাস্তবতা
আসিফ নজরুল মনে করিয়ে দেন যে, ওই সময় অনেকেই সরকারকে ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এসব আইন ও সংস্কারগুলো স্থায়ীভাবে বহাল রাখার দাবিতে সোচ্চার হওয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থে প্রণীত এসব আইনি কাঠামো ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে দেশের মানুষ সচেতন থাকবেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না এবং এসব আইনই আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


