অস্থিরতার সুযোগে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অস্থিরতার সুযোগে পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ উঠেছে। ৪টি তেলের গাড়ি গায়েব করে খোলা বাজারে পাচার করেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে যখন জ্বালানি খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই বিমানের জ্বালানি (জেট ফুয়েল) গায়েব করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এক ডিপো থেকে অন্য ডিপোতে নেওয়ার পথে ৪টি গাড়িতে থাকা মোট ৭২ হাজার লিটার তেল চুরি করে খোলা বাজারে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। এই চুরির নেপথ্যে পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি পুরনো সিন্ডিকেট জড়িত বলে জানা গেছে।
যেভাবে গায়েব হলো জ্বালানি:
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ৪টি গাড়ি (নম্বর: ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ এবং ৪১-০৬৯৮) রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। কাগজে-কলমে এগুলো পৌঁছানোর হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে ১৮ হাজার লিটার করে মোট ৭২ হাজার লিটার তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে। সাধারণত দাম কম হওয়ায় জেট ফুয়েল অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে একটি অসাধু চক্র।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, এই বিশাল ঘাটতি ধামাচাপা দিতে অভিনব কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সচরাচর বিভিন্ন কোম্পানিকে তেল দেওয়ার সময় প্রতি লাখে ১ হাজার লিটার তেল কম দেওয়া হয়। সেই ‘বাঁচানো’ তেল দিয়ে এখন এই ৭২ হাজার লিটারের হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত সাইদুল হকের অতীত:
কুর্মিটোলা ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এমনকি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তাঁর বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৮ মার্চ কমিটি ডিপো পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
দুদকে তদন্ত ও সম্পদ:
শুধু তেল চুরিই নয়, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে সনদ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। ২০১৯ সালে ব্যাংকে ভুয়া বেতন সনদ ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করায় তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। এছাড়া দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে তাঁর প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ি রয়েছে, যা তাঁর আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি কেবল শুনেছেন এবং দ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।


