‘সংস্কার বিঘ্নিত হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না’: পীর সাহেব চরমোনাই
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কার ব্যাহত হলে ইতিহাস রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ যদি সংবিধানের দোহাই দিয়ে বা রাজনৈতিক স্বার্থে বিঘ্নিত করা হয়, তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ও গণ-অভ্যুত্থান
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি করেছে, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন এক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেখানে আর কোনো দিন কোনো স্বৈরশাসকের জন্ম হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আলোচনা ও বিপুল অর্থ ব্যয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটেও জনতা এই সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
বিএনপির ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ
বিবৃতিতে বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “গণভোট আয়োজনে বিএনপির সায় ছিল এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এর পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছে। কিন্তু এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশকে বেআইনি ও প্রতারণা বলছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন দ্বিচারিতা জাতিকে বিস্মিত করেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সংবিধানের বিরুদ্ধে মানুষ বিদ্রোহ করেছিল, এখন কেন সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বৈরতন্ত্রের আইনি কাঠামো ও জনতার দায়িত্ব
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেসব আইনি ছিদ্র বা সুযোগ নিয়ে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিএনপি যদি সেই সুযোগগুলো এখনো বহাল রাখতে চায় তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম রাখার চেষ্টা করা হলে জনতাকে আবারো তাদের দায়িত্ব পালনে রাজপথে নামতে হতে পারে।”
পীর সাহেব চরমোনাই সকল রাজনৈতিক দলকে জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।


