সড়কে যান চলাচল নিয়ে ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা
ঢাকা মহানগরে শব্দদূষণ কমাতে নীরব এলাকায় অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ঢাকা মহানগরে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া মারাত্মক শব্দদূষণ কমাতে এবং বিশেষ করে ‘নীরব’ (সাইলেন্ট) এলাকাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের নতুন ও জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নীরব এলাকায় সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সমন্বিত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন তিনি।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব করতে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা:
সভায় ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মতবিনিময়কালে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও যানজটের সম্ভাব্য সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ একটি আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আরও উন্নত, মানসম্মত ও জনবান্ধব ট্রাফিকসেবা দিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি:
সভায় শব্দদূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শব্দদূষণ শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি করছে না, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুতর ও নীরব হুমকি। তাই হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকার মতো নির্ধারিত নীরব এলাকায় সুস্পষ্টভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চালকদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকতে নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ ট্রাফিক বিভাগের সকল যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


