ইরান কখনোই আমেরিকার হুমকিতে ভয় পায়নি: আরাগচি

ইরান কখনোই আমেরিকার হুমকিতে ভয় পায়নি এবং মার্কিন যুদ্ধ শুরু করা একটি বড় ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তুর্কি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

Jul 20, 2026 - 15:07
 0  4
ইরান কখনোই আমেরিকার হুমকিতে ভয় পায়নি: আরাগচি
×

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা চূড়ান্ত ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা পরিমাপের ধারণাও পুরোপুরি ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

​সম্প্রতি তুরস্কের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তেহরানের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এসব বিস্ফোরক তথ্য জানান আরাগচি।

​‘ইরান কোনো ভেনেজুয়েলা নয়’:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ ও যুদ্ধের হুমকি প্রসঙ্গে আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরান কখনোই আমেরিকার কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না। ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে, আমরা ভেনেজুয়েলা নই যে সহজে চাপ দিয়ে বা সামরিক হুমকি দিয়ে আমাদের নতিস্বীকার করানো যাবে।”

​তিনি আরও দাবি করেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল ভেবেছিল স্বল্প মেয়াদী ও আকস্মিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে খুব দ্রুত দুর্বল করে ফেলা সম্ভব হবে। কিন্তু তাদের সেই সামরিক গণনা ও কৌশল বাস্তবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস ও নিরাপত্তা দুর্বলতার স্বীকারোক্তি:

সাক্ষাৎকারে ইরানের ভেতরে ইসরাইলি হামলার পেছনে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ তোলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, “ইরানের ভেতর থেকে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার বা ফাঁস হওয়ার কারণেই মূলত শত্রু পক্ষ ইসরাইল ভেতরে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আমাদের নিরাপত্তাজনিত কিছু অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাজ করেছে, যা এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি এবং তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।”

​তিনি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার (মোসাদ) সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা সুনির্দিষ্টভাবে জানতেন যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিদিন ঠিক কোন সময়ে এবং সকালে কখন তাঁর দাপ্তরিক কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগাম পরিকল্পনা:

আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোনো কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর কোনো হামলা চালানো হতো, তবে এর কঠোর সামরিক জবাব হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও বন্ধ করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তেহরান আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিল।”

যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ:

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান পরোক্ষ যোগাযোগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সাথে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর সর্বসম্মত অনুমোদন নিয়েই গ্রহণ করা হয়েছে।

​তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে মূলত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কার্যকরিতা যাচাই করতেই ইরান এতদিন আলোচনা টেবিলে অংশ নিয়েছিল। তবে আমেরিকার বর্তমান আচরণের পর পুনরায় আলোচনা শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা চলছে।