জনরায় উপেক্ষা করার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: চরমোনাই পীর
জনরায় উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না উল্লেখ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই। একই সাথে তিনি গণভোট নিয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল মূলত জনগণের দেওয়া সুনির্দিষ্ট রায় ও রাজনৈতিক অধিকারকে অবজ্ঞা করার কারণে। এমনকি চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিশালী পাটাতনও নির্মিত হয়েছে জনরায়কে বারবার উপেক্ষা করার প্রেক্ষাপটে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়—জনগণের স্পষ্ট রায়কে অমান্য বা উপেক্ষা করার পরিণতি কখনোই কোনো শাসক বা দলের জন্য শুভ হয় না।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের এক নীতি-নির্ধারণী জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে সরকারের প্রতি এই জোর আহ্বান জানান দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
‘আইনি মারপ্যাচে গণভোটের রায় উপেক্ষা নয়’:
সরকারের উদ্দেশে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “কোনো ধরনের আইনি মারপ্যাচ, ফাঁকা কথার ফুলঝুরি কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা ও স্বার্থ বিবেচনা করে গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের রায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করবেন না। গণভোটের মূল সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করুন।”
বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা:
জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির বর্তমান অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, “ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’-এ বিএনপিসহ দেশের সকল প্রধান রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছিল। সেই সনদের আইনি ও সাংবিধানিক মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি একবারের জন্যও এই গণভোটের বিপক্ষে কোনো কথা বলেনি। বরং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার প্রকাশ্যে জনসভায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোরালো প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “অথচ আজ সংসদে দাঁড়িয়ে সেই গণভোটকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করা বিএনপির চরম রাজনৈতিক অসততা ও শঠতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলব—রাজনীতিতে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি, অসততা ও শঠতা করবেন না। বরং জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায়কে সম্মান জানান এবং নির্বাচনের আগে নিজেদের ঘোষিত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি অবিচল থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখুন। এতে নেতা হিসেবে আপনি, দল হিসেবে বিএনপি এবং রাষ্ট্র হিসেবে দেশের সকল নাগরিক উপকৃত হবে।”
জরুরি সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি:
অনুষ্ঠিত এই জরুরি নীতি-নির্ধারণী সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, নেহার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরীসহ দলটির কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও বিষয়ভিত্তিক বিভাগের শীর্ষ দায়িত্বশীলবৃন্দ অংশ নেন।


