শাপলা হত্যাকাণ্ডে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২১ জুলাই চার্জ দাখিল করা হবে।

Jul 19, 2026 - 20:28
 0  5
শাপলা হত্যাকাণ্ডে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর
×

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সংঘটিত বর্বরোচিত সামরিক ও পুলিশি ক্র্যাকডাউনের তদন্তে প্রাথমিকভাবে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের সম্পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করে আগামী ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চার্জ (Formal Charge) দাখিল করা হচ্ছে।

​আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই চাঞ্চল্যকর মামলার খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের কাছে হস্তান্তর করে।

​৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত, ২১ জুলাই ফরমাল চার্জ:

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত সংস্থার খসড়া প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলার পাশাপাশি ৫৮ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩ জনের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হতে তদন্ত টিম কাজ করছে। আজ সকালে আমাদের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে এই খসড়া রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। আমরা সুনিপুণভাবে যাচাই করছি যাতে অপরাধী কেউ বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। আশা করছি, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে।”

লাশ গুমের চেষ্টা হয়েছিল: মাওলানা মামুনুল হক:

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের নির্মমতার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রকৃত নিহতের তথ্য অনেক মিসিং রয়েছে। কারণ, তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলার শহীদদের লাশ গুম করার এক পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। যার কারণে নিখোঁজ অনেকের তথ্যই এই সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে অথেন্টিকভাবে আমাদের হেফাজতে যে তথ্যগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল, এই ৬১ জনের তথ্য মূলত তাদেরই।”

আসামির তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান, পুলিশ ও র‌্যাব প্রধান:

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে ভারতের আশ্রয়ে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও লেখক শাহরিয়ার কবীর। একই সাথে তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ মাঠপর্যায়ে সরাসরি অপারেশনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে এতে আসামি করা হয়েছে।

​আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভী এবং মুফতী হারুন ইজহারসহ আলেম সমাজের প্রতিনিধি ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরবৃন্দ।