সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি পারমাণবিক চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে চুক্তিটি।

Jul 19, 2026 - 19:25
Jul 19, 2026 - 19:34
 0  2
সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
×

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় হিসেবে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি কৌশলগত পারমাণবিক চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সই না মেলায় হাই-প্রোফাইল এই চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখেনি।

​কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই চুক্তির মূল আলোচনা বেশ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও প্রচ্ছন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে সই করতে কিছুটা বিলম্ব করছেন। এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ার ভয়ও রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের।

পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ সুগমের আশঙ্কা:

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হলো পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরির মূল ও প্রাথমিক উপায়। সাধারণত কোনো দেশ বেসামরিক বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজের জন্য ইউরেনিয়াম নিজে তৈরি না করে অন্য কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ থেকে তা আমদানি করে থাকে।

​আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম না থাকলে এই চুক্তির ফাঁক গলে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত পথ পেয়ে যেতে পারে। এর আগে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন, “আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পরমাণু বোমা বানায়, তবে সৌদি আরবও বসে থাকবে না, তারাও তা বানাবে।”

তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ:

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই খসড়া চুক্তিতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ)-র কঠোর ও বাধ্যতামূলক তদারকির নিয়মটি রাখা হয়নি। এর ফলে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি চাইলেই সৌদির যেকোনো সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্র বা ল্যাবরেটরি আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবে না। পুরো বিষয়টি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির দ্বিপাক্ষিক চুক্তির নিজস্ব শর্তাবলীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।

​এর আগে ২০০৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তি নেওয়ার লোভ ত্যাগ করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আমেরিকার সাথে চুক্তি করেছিল—যা পারমাণবিক সুরক্ষার আন্তর্জাতিক পরিভাষায় আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত। তবে সৌদির ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক বিতর্ক ও পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি:

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের ভূমিতে এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তি দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ যেকোনো চরম রাজনৈতিক সংকটে রিয়াদ এই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে।

​অন্যদিকে, চুক্তির পক্ষে থাকা মার্কিন লবিস্টদের যুক্তি হলো—এর মাধ্যমে আমেরিকার পরমাণু ব্যবসার যেমন বিলিয়ন ডলারের বড় লাভ হবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি এই চুক্তি না করে, তবে সৌদি আরব হয়তো রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে আরও সহজে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই এই প্রযুক্তি পেয়ে যাবে। তবে বিরোধীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে নিয়ম শিথিল করে পারমাণবিক চুক্তি করে, তবে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিস্তার রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।