২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

সারা দেশে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

Jul 20, 2026 - 11:35
 0  5
২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
×

সারা দেশজুড়ে তীব্র ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। এই চলমান পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ২টি জেলায় নতুন করে বোরো ও রোপিত ফসলসহ নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র’।

​আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

​উ উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি (তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকা):

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও দেশের ভেতরে এবং উজানে ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

​এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ও ধরলার পানি লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে এবং কোনো কোনো স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিত্র (সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকা):

অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি থমকে থাকলেও তা বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে।

​আবহাওয়া মডেল বিশ্লেষণ করে সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে এ দুটি প্রধান নদীর পানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে দুই জেলার সীমান্ত ও নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি প্লাবন দেখা দিতে পারে। আর যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে কিছুটা পানি জমা ছিল, সেখানে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত বা কিছুটা অবনতি হতে পারে।

সতর্কতা ও প্রস্তুতি:

নদী অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসবাসকারী মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রস্তুতি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।