মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিল বাংলাদেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রায়ের কপিসহ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ:
সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আসাদুজ্জামান খান কামালকে অবিলম্বে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের (Extradition) জোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। চিঠির সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তার বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের মূল রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিও (Copy of Judgment) সংযুক্ত করে পাঠানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক ট্রাইব্যুনালের রায় ও পটভূমি:
উল্লেখ্য, চব্বিশের রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো ও বর্বরোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে প্রধান আসামি করে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করা হয়।
সুদীর্ঘ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের মূল রায়:
ট্রাইব্যুনাল তাঁর পর্যবেক্ষণে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সরাসরি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে (Death Penalty) দণ্ডিত করেন।
অপরদিকে, একই মামলায় পরবর্তীতে রাজসাক্ষী বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায়ের পর থেকেই ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ফিরিয়ে আনতে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে সরকার।


