জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেও নেত্রকোনায় ফাটল ধরা ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চলতি বছর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়া পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো ফাটল ধরা ভবনে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান।

Jul 12, 2026 - 11:10
 0  3
জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেও নেত্রকোনায় ফাটল ধরা ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান
×

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতি বছর জেলার 'শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তবে ঈর্ষণীয় এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকটের এক উদ্বেগজনক চিত্র। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনের ফাটল ধরা ছাদের নিচেই প্রতিদিন চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

​উপজেলার বামেরচর এলাকায় মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশ সড়কের পাশে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭ জন দক্ষ শিক্ষক এবং ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ না হওয়ায়, পুরোনো দুটি একতলা ভবনের ওপরই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পুরো পাঠদান কার্যক্রম।

আতঙ্কের নাম ১৯৯৭ সালের ভবন

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্লাসের মাঝেই প্রায়শই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং এর দরজা-জানালাগুলোও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ২০০৬ সালে নির্মিত অপর ভবনটিতে মাত্র ৩টি শ্রেণিকক্ষ থাকায় সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে নিরুপায় হয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এমনকি শিক্ষকদের প্রধান অফিস কক্ষটিও ওই ফাটল ধরা ভবনেই অবস্থিত।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী তাঁর ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা শিক্ষকেরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যার ফলশ্রুতিতে স্কুলটি জেলায় শ্রেষ্ঠ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট। বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। সারাক্ষণ মাথার ওপর ছাদ ধসে পড়ার আতঙ্কে থাকতে হয়। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

শ্রেষ্ঠ হয়েও অবকাঠামোতে বৈষম্য

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, "জেলায় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আমাদের পুরো এলাকাকে গর্বিত করেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত দিক থেকে বিবেচনা করলে এই স্কুলটি চরম বৈষম্যের শিকার। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। আমরা দ্রুত এখানে একটি নতুন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, "ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনের যাবতীয় তথ্য ও তালিকা অলরেডি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দও অধিদপ্তর থেকেই নির্ধারণ করা হয়।"

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন জানান, "বিদ্যালয়ের ফাটল সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দ্রুতই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।"

​এছাড়াও নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, "ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্যগুলো উপজেলা পর্যায় থেকে আমাদের কাছে আসে। পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমি নিজে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"