ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৪
ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। জবাবে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একযোগে বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের পালটা হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক হামলায় দেশের পাঁচটি প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত ৭৮ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সুনির্দিষ্ট আঘাত
এদিকে মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে অবস্থিত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম, কাতারে মার্কিন বাহিনীর একটি আর্লি ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সাইট এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ও সফল হামলা চালিয়েছে। এই আক্রমণগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি
পালটা হামলার পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন প্রশাসনের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ‘বোকা’ বলে আখ্যায়িত করে জানায়, মার্কিন প্রশাসনের কোনো লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা কোনো অবস্থাতেই ইরানের মাটিতে পূরণ হতে দেওয়া হবে না। একই সাথে চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি বিপ্লবের সুমহান আদর্শ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরান যেকোনো স্তরে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


