শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে দেশের ভবিষ্যত বিনিয়োগ: ভূমিমন্ত্রী
শিক্ষায় বিনিয়োগকে দেশের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ বলে আখ্যা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহীতে ৪৮২ জন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে দেওয়া হলো এককালীন শিক্ষাবৃত্তি।
শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা আর্থিক বাধা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাবৃত্তি ও কার্যকর সহায়তা কার্যক্রম দেশব্যাপী জোরদার করেছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর মনিচত্বরস্থ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মেধা বিকাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। শিক্ষা একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কেবল আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী তার মেধা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।" মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোকেও আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পারিবারিক আর্থিক চাপের কারণে দেশের অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ের এই বৃত্তি কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাই যোগায় না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং মাঝপথে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার হার কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৪৮২ শিক্ষার্থী পেল ২৪ লাখ টাকা
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও ভালো ফলাফলকারী মোট ৪৮২ জন বাছাইকৃত শিক্ষার্থীর মাঝে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২৪ লাখ ১০ হাজার টাকার এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়। বক্তব্য পর্ব শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে এই বৃত্তির চেক তুলে দেন।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সহায়তা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার পথে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে।


