ট্যাক্স ফাঁকির দায়ে ‘ঘরের বাজার’-কে পৌনে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করল এনবিআর, পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ
ট্যাক্স ফাঁকির দায়ে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ঘরের বাজার’-কে ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এনবিআর। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিম্নমানের ও নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা।
দেশের পরিচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ঘরের বাজার’ (Ghorer Bazar)-কে ট্যাক্স বা কর ফাঁকির দায়ে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বমোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এনবিআরের একটি নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, বিগত ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে দেশের প্রচলিত আয়কর আইনের ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ঘরের বাজার-এর বিরুদ্ধে এই কঠোর জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে।
‘অর্গানিক’ পণ্যের নামে প্রতারণা, ফেসবুকে ক্ষোভের বন্যা:
এদিকে শুধু ট্যাক্স ফাঁকিই নয়, ঘরের বাজারের সরবরাহকৃত পণ্যের মান ও সত্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। ভুক্তভোগী ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বা নিম্নমানের পণ্যকে ‘অর্গানিক’, ‘খাঁটি’ কিংবা ‘প্রাকৃতিক’ হিসেবে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির কালা ভুনা মশলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ভোক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “আপনাদের কালা ভুনা মশলায় এত ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করেছেন যে, এটা নিয়মিত খেলে পেটের ভেতরের সব হজম প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাবে।”
কোরিয়া প্রবাসী ভোক্তার ‘নকল এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল’ ফাঁসের অভিজ্ঞতা:
ফেসবুকে ঘরের বাজার থেকে প্রতারিত হওয়া এক ভোক্তা নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন:
"আমি ঘরের বাজার পেজ থেকে ৫০০ মিলি এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ১০৯০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। মূলত খালি পেটে অলিভ অয়েল আর লেমন শটস খাওয়ার জন্যই এটা কেনা। কোরিয়ার বুসান (Busan) শহরে আসার পর একটু রিসার্চ করে এবং বিশ্বখ্যাত ডা. এরিক বার্গের ভিডিও দেখে জানলাম, আমি যেটা কিনেছিলাম সেটা আসলে ভুয়ো বা ‘ফেক এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আসল এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সাধারণত এমন ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ বোতলে বিক্রি হয় না, প্যাকেজিংয়ের আরও অনেক ক্রাইটেরিয়া আছে। জামশেদ মজুমদার হয়তো কোটি টাকার বিজনেস করেন, উনার ফেসভ্যালু ও কথাবার্তা দেখে আমার মতো অনেকেই ট্রাস্ট করে প্রোডাক্ট কিনবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে মানুষকে মিসলিড করা সত্যিই খুব দুঃখজনক।"
বক্তব্য মেলেনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের:
ট্যাক্স ফাঁকি, এনবিআরের জরিমানা এবং ভোক্তাদের এসব সুনির্দিষ্ট প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে ‘ঘরের বাজার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজমুস সাকিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে তিনি জানান, অফিশিয়াল ইমেইল থেকে যোগাযোগ করলে ঘরের বাজারের লিগাল টিম বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে।
অন্যদিকে, ঘরের বাজারের বহুল পরিচিত মুখ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জামশেদ মজুমদারকেও ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ই-কমার্স খাতের ওপর মানুষের আস্থা ধরে রাখতে চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে থাকা এমন ফাঁকফোকর ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।


