উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ৪টি পয়েন্টে নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ৫১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ।

Jul 13, 2026 - 18:21
 0  4
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি
×

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে টানা অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হয়েছে। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান এই বন্যা, ঢল ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

​আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮২টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ৪টি পয়েন্টে নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে:

​সুরমা নদী: ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে।

​কুশিয়ারা নদী: ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

​কুশিয়ারা নদী: মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

​সোমেশ্বরী নদী: কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে।

​এছাড়াও সুরমা, তিস্তা ও মুহুরী নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্ট বর্তমানে সতর্কসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করায় ওইসব অববাহিকায় নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জামালপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, বাড়ছে পাহাড়ী ঢল

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে জামালপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ১৭৪ মিলিমিটার, বগুড়ায় ১৬৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার অতি ভারী বর্ষণ হয়েছে। একই সাথে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১১৫ মিলিমিটার এবং মাউসিনরামে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নেমে বন্যার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

​১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলা— খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলার প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ এই বন্যায় প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ২ লাখ sixty-seven হাজার পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

​বিশেষ করে বান্দরবান ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। দুর্গত এলাকার প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাস

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী নতুন বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় পানি নিষ্কাশনের হার বেড়েছে এবং সেখানে পরিস্থিতির ধীরগতির উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

​বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার ধীর গতিতে উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির বড় ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।"