বন্যায় সাত জেলায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, পানিবন্দি আড়াই লাখের বেশি পরিবার

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আড়াই লাখ পরিবার পানিবন্দি।

Jul 12, 2026 - 23:39
 0  4
বন্যায় সাত জেলায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, পানিবন্দি আড়াই লাখের বেশি পরিবার
×

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভয়াবহ পাহাড়ধসে বন্যা পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা ও বন্যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

​আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

​মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বর্তমানে বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ প্লাবিত। বন্যাজনিত কারণে মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা নিজ ঘরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্গত মানুষদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি কক্সবাজারে, ক্ষতিতে শীর্ষে চট্টগ্রাম

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। জেলাটিতে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দা এবং ১৩ জন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিক। এছাড়া কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

​অন্যদিকে, ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার।

​প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, অন্যান্য পার্বত্য ও সীমান্ত জেলাগুলোর মধ্যে বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্লাবিত জেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।