ভারি বর্ষণে মুগদা-খিলগাঁও-মতিঝিলে জলাবদ্ধতা
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে খিলগাঁও, মুগদা ও মতিঝিলসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাতভর ও সকালের টানা ভারী বর্ষণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা। গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অঝোর বৃষ্টিপাতের ফলে আজ রবিবার (১২ ১২ জুলাই) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া হাজারো নগরবাসীকে চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে— খিলগাঁও, গোড়ান, তালতলা, সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল, মালিবাগ ও মৌচাকসহ রাজধানীর একটি বড় অংশের সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ফুটপাত ও ড্রেন পানিতে সমতল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পোশাক-কাগজপত্র ভিজে একাকার, চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়
বৃষ্টির মধ্যেই কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষকে কাকভেজা হয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে। রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় ছাতা থাকলেও নিস্তার পাননি কেউ। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী তহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সকালে বের হয়েই দেখি পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। হাঁটতে গিয়ে জুতা-প্যান্ট সব ভিজে একাকার। আশপাশের সব রাস্তা পানির নিচে থাকায় কোনো বিকল্প পথও ছিল না।"
সবুজবাগের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, "ছোট শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে খুব আতঙ্ক কাজ করছিল। রাস্তায় কোথায় গর্ত আর কোথায় ড্রেন, তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না।"
এদিকে মতিঝিলগামী ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গণপরিবহন অত্যন্ত কম ছিল। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো দুই থেকে তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়েই অফিসে পৌঁছাতে হয়েছে।
যানবাহন বিকল ও ধীরগতি
সড়কে পানি জমে থাকায় রিকশা, সিএনজি, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক স্থানে দ্রুতগামী যানবাহনের চাকার সৃষ্ট পানির ঢেউয়ে ফুটপাতে থাকা পথচারীরা ভিজে যাচ্ছেন। এছাড়া ইঞ্জিনে পানি ঢুকে ও মাঝরাস্তায় সিএনজি-মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ায় বিভিন্ন মোড়ে সাময়িক কিন্তু তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই এলাকাগুলোতে একই জরাজীর্ণ চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা বড় বড় উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ক্ষুব্ধ নগরবাসী অতি দ্রুত রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পানি নিষ্কাশনে দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।


