বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী মাওলানা আতাউল্লাহর মৃত্যু
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার কামেলাইন জামাতের মেধারী শিক্ষার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও মাদরাসায় গভীর শোক।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য উচ্চতর ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া’র কামেলাইন জামাতের মেধাবী শিক্ষার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার দক্ষিণ বরইতলী শান্তিবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং বিশিষ্ট আলেম মাওলানা নেছার আহমদের দ্বিতীয় পুত্র। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (১৩ জুলাই) চকরিয়ায় নিজ এলাকায় বন্যার পানিতে সাঁতার কাটার সময় অসাবধানতাবশত তীব্র স্রোতের মুখে দুর্ঘটনাবশত তিনি পানিতে ডুবে মারা যান।
শিক্ষক-সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া
তরুণ এই আলেমের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শিক্ষক ও সহপাঠীদের অনেকেই এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।
মরহুমের প্রিয় শিক্ষক মাওলানা সলিমুদ্দীন মাহদী কাসেমী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, "কয়েক বছর আগে বিশ্ব ইজতেমায় আতাউল্লাহর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। সে ছিল অত্যন্ত বিনয়ী, আদবসম্পন্ন, নম্র ও খেদমতপ্রিয় একজন ছাত্র। সব সময় নীরবে হুজুরদের খেদমত ও সেবা করত। নিষেধ করলেও হাসিমুখে বলত— 'হুজুর! আমি আপনার কাছে থেকে আদব শিখতেই তো এসেছি। আমাকে একটু খেদমত করতে দিন।' তাঁর এই ইখলাস (নিষ্ঠা), উত্তম চরিত্র ও অনন্য সেবাপরায়ণতা অল্প সময়েই মাদরাসার সবার হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল।"
এক শোকবার্তায় ওই শিক্ষক আরও বলেন, আতাউল্লাহর এই আকস্মিক চলে যাওয়া আমাদের সবাইকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে মৃত্যু মানুষের কতটা সন্নিকটে। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের পরিপূর্ণ মাগফিরাত, শাহাদাতের মর্যাদা, জান্নাতুল ফিরদাউস এবং এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ‘সবরে জামিল’ (ধৈর্য্য ধারণের শক্তি) কামনা করেন।


