মাদক প্রতিরোধে চাহিদা ও জোগান উভয়ই নির্মূল করতে হবে’: চরমোনাই পীর

দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় মাদককে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এর চাহিদা ও জোগান উভয়ই নির্মূল করতে প্রধানমন্ত্রীর একক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পীর সাহেব চরমোনাই।

Jul 17, 2026 - 21:21
 0  3
মাদক প্রতিরোধে চাহিদা ও জোগান উভয়ই নির্মূল করতে হবে’: চরমোনাই পীর
×

দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় বর্তমান দেশের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সমস্যা হলো মাদক। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ যে ‘জনমিতি লভ্যাংশ’ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) পেয়েছিল, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা যেত। কিন্তু অতীতের সরকারগুলো যুবসমাজকে ধ্বংস করতে মাদককে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাই এখন মাদক প্রতিরোধে এর চাহিদা এবং জোগান (সরবরাহ লাইন) উভয় দিকই সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে।

​আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ কর্তৃক আয়োজিত "মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভা"য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

সরবরাহ লাইন ভাঙতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি:

জনশক্তি ধ্বংসের পেছনে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অপশক্তির সমালোচনা করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “দেশের উদ্বৃত্ত জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে বিদেশে রপ্তানি করা এবং দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা দরকার ছিল। কিন্তু অতীতের কোনো সরকারই সেই পথে হাঁটেনি; বরং মাদককে প্রশ্রয় দিয়ে আমাদের প্রধান জনসম্পদকে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মাদকের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাতে পারি, কিন্তু মাদকের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ লাইন সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”

​তিনি বর্তমান সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি জনাব তারেক রহমানের সরকারকে বলব—মাদক সরবরাহের সাথে দেশের অনেক রথী-মহারথীদের গভীর সংযোগ থাকে। অনেক সময় সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে থাকে। তাই মাদকের এই শক্তিশালী সরবরাহ লাইন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একক ও বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।”

চরমোনাইকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয়:

চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে পীর সাহেব চরমোনাই মাদকের সামাজিক ও পারিবারিক ভয়াবহতা চিত্র তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি চরমোনাই ইউনিয়নসহ গোটা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে একযোগে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য:

সুধী সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) এবং দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।

​এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এডিসি (দক্ষিণ) জনাব মুহাম্মাদ বেলাল হুসাইন এবং বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। বক্তারা মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।