জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে ধানমন্ডিতে জামায়াতের র্যালি
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বর্ণাঢ্য ‘জুলাই র্যালি’ ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ বজ্রকণ্ঠের স্লোগানে পুরো ধানমন্ডি এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকালে জামায়াতে ইসলামী ধানমন্ডি থানার উদ্যোগে এই বিশাল কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। র্যালিটি ধানমন্ডির ঐতিহাসিক আবাহনী মাঠের সমুখভাগ থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা, সায়েন্সল্যাব সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান এবং ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় আবাহনী মাঠে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
র্যালিতে জামায়াতের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়:
র্যালি শেষে আবাহনী মাঠে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমির মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের প্রফেশনাল পরিচালনায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও লইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, “জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে রক্ষা করতে চাই, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনতিবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের সমাজ থেকে সকল প্রকার বৈষম্য, শোষণ ও ফ্যাসিবাদ দূর করে একটি ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠন করতে হবে।”
ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি:
জামায়াত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের রক্ত, বীর জনতা ও সাধারণ ছাত্রদের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বা ফ্যাসিবাদী পুনর্বাসনের চেষ্টা জুলাইয়ের এই মহান অর্জনকে এ দেশের মানুষের বুক থেকে মুছে দিতে পারবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাইয়ের ম্যান্ডেট রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী সর্বদা রাজপথে প্রহরী হিসেবে কাজ করবে।”


