যুদ্ধের খবর পছন্দ না হলে মিডিয়ার লাইসেন্স বাতিল করবেন ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘বিকৃত’ সংবাদ প্রচার করলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ব্রেন্ডন কার। একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের খবর প্রচার যদি প্রেসিডেন্টের পছন্দ না হয় বা তা ‘বিকৃত’ মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (FCC) প্রধান ব্রেন্ডন কার।
ব্রেন্ডন কার-এর হুঁশিয়ারি:
শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুজব ও বিকৃত খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে অবশ্যই জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, অন্যথায় তারা লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।” যারা ইতিমধ্যে ‘ভুয়া’ খবর প্রচার করছে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ও সমালোচনা:
ব্রেন্ডন কার-এর এই বার্তার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা এই সতর্কবার্তাকে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, এটি মূলত সংবাদমাধ্যমকে বলে দেওয়ার চেষ্টা যে যুদ্ধ কীভাবে কাভার করতে হবে। যুদ্ধের ইতিবাচক কভারেজ না দিলে লাইসেন্স নবায়ন হবে না—এমন ইঙ্গিত দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত।
ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর এবিসি (ABC) চ্যানেলে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান যুদ্ধের আবহে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পথ বেছে নিচ্ছে।


