হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন
বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখলের পুরোনো টর্চার সংস্কৃতি আর কখনো ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্যাতন, টর্চার সেল এবং হল দখলের কুৎসিত সংস্কৃতি আর কখনো ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ঐতিহাসিক বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
'শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে মুখ খুলতে পারছেন'
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির সুস্থ ধারার গুরুত্ব তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, “গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখলের অপসংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন মুক্ত পরিবেশে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারছেন, যা আমাদের নতুন বাংলাদেশের এক বিরাট প্রাপ্তি।”
তিনি অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা যখন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন ক্যাম্পাসে স্বাধীনভাবে কথা বলার কোনো পরিবেশ ছিল না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানেই ছিল জীবনের চরম ঝুঁকি নেওয়া। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর সেই ভয়ের দেওয়াল ভেঙে গেছে।”
হল দখলের বিরুদ্ধে জাতীয় ছাত্রশক্তির অবস্থান
আখতার হোসেন বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো ক্যাডারভিত্তিক বা হল দখলের নোংরা রাজনীতি করবে না। যদি ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী হলে গিয়ে ছাত্র নির্যাতন বা হল দখল করতে আসে, তবে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সবার আগে প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। হলের মালিকানা থাকবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতেই।”
শঙ্কা ও সতর্কতার বার্তা
দেশের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিছু কিছু জায়গায় এমন কিছু ঘটানো হচ্ছে, যা আবারও পুরোনো ভয় ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করে। ক্যাম্পাসে নির্যাতন, সিট বাণিজ্য ও বাকস্বাধীনতা হরণের পুরোনো বিষবৃক্ষ যেন আর মাথাচাড়া দিতে না পারে—সে বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় উপস্থিত অন্য অতিথি ও বক্তাবৃন্দ
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন:
সারোয়ার তুষার — যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
ডা. মাহমুদা আলম মিতু — যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, এনসিপি।
স্মৃতিচারণ সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির ছাত্রযোদ্ধারা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


