বগুড়ায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সিটি কর্পোরেশন

বগুড়া মহানগরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি কর্পোরেশন। প্রথম সচিব পপি খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

Jul 6, 2026 - 00:21
Jul 6, 2026 - 12:45
 0  3
বগুড়ায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সিটি কর্পোরেশন
×

বগুড়া মহানগরের ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। কয়েকদিন ধরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করার পর রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সিটি প্রশাসন।

সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সচিব পপি খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবক, নগর পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জনবল অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোর্ট চত্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান সার্কিট হাউজ সড়ক, জিলা স্কুল এলাকা, সাতমাথা, স্টেশন রোড, রেলওয়ে মার্কেট, সপ্তপদী মার্কেট, টেম্পল রোড, গালাপট্টি, ফতেহ আলী বাজার, ফতেহ আলী ব্রিজ, চাঁদনী বাজার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক এবং পোস্ট অফিসের পেছনের সড়কসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রাখা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক ভ্রাম্যমাণ দোকানি তাদের পণ্যসামগ্রী রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, কোনো মার্কেটের সামনে রাস্তা ও ফুটপাত পুনরায় দখল করা হলে কিংবা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল এবং আর্থিক জরিমানাও করা হবে।

অভিযান শেষে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সচিব পপি খাতুন জানান, প্রশাসকের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগরকে যানজটমুক্ত ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা দিয়ে আগেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত দখল করে রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাস নিয়মিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ দখলদারদের মালামাল জব্দের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা করা হবে। এছাড়া ফুটপাত ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মার্কেট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তবে কেবল উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের জন্য পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিটি প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখলের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।