জুলাই নিয়ে কটাক্ষ: শাওন, মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদের রক্তে ভেজা জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Jul 4, 2026 - 13:05
 0  4
জুলাই নিয়ে কটাক্ষ: শাওন, মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি
×

চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, এর বিপ্লবী চেতনা ও বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)-এর নেত্রী শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

​গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা থানায় উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। আজ শনিবার (৪ জুলাই) শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদ এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে:

​শান্তা ফারজানা: অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, শান্তা ফারজানা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি চরম অবমাননাকর ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​মেহের আফরোজ শাওন: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও অভিনেত্রী শাওন তাঁর ফেসবুক ও বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত বা সাজানো ঘটনা’ (জুলাই চক্রান্ত/ট্রেন্ড) হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র ও শহীদদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

​মাহিয়া মাহি: চিত্রনায়িকা মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র কটাক্ষ করে তাদের সংগ্রামকে ‘অভিনয় করার’ সঙ্গে তুলনা করে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।

তদন্তভার ডিবির সাইবার বিভাগে:

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, “যেহেতু পুরো বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার-সংক্রান্ত অভিযোগ, সেহেতু প্রাথমিক ডায়েরি করার পর অভিযোগটি ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) সাইবার বিভাগে গভীর যাচাই-বাছাই ও তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

​১ হাজার ৪০০-এর অধিক বিপ্লবীর রক্তে অর্জিত স্বাধীনতায় এমন অপপ্রচার ও অবমাননার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। অনেকেই এই তিনজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।