উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত ৯
কক্সবাজারের উখিয়ায় অতিভারী বৃষ্টির জেরে পৃথক তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ চলছে। এর জের ধরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পৃথক তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও স্থানীয়দের বসতবাড়িতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। মাটির নিচে চাপা পড়ে নারী ও শিশুসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) ভোররাত থেকে সকালের মধ্যে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ক্যাম্প প্রশাসন পৃথক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এই ৯ জনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ক্যাম্প ও এলাকাভিত্তিক নিহতের বিবরণ:
ছাত্তারের ঘোনা এলাকা (সর্বশেষ নিহতের তথ্য): সোমবার ভোর ৪টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৪৫) বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনিসহ পরিবারের ৩ সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্প (ডি/৬ ব্লক): সোমবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে জামতলী ক্যাম্পে পাহাড় ধসে পড়ে এক রোহিঙ্গা পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের ৪ বছর বয়সী শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস।
১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্প (সি/১১ ব্লক): রাত ৩টার দিকে এই ক্যাম্পে পাহাড় ধসে একই সাথে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
৭ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্প (ডি/৭ ব্লক): রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা মাটির চাপায় একরাম (৭) নামের এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি (নেতা) এনায়েত উল্লাহ জানান, ঘটনার পরপরই রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের মাইকিং:
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছায়। অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরিয়ে এ পর্যন্ত ৩টি স্পট থেকে লাশ ও আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে।”
পাহাড় ধসের ঝুঁকি চরম আকারে বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক মাইকিং ও সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে।
ইউএনও ও আবহাওয়াবিদের বক্তব্য:
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, “ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত দেশি ও আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে আমরা নিয়মিত মাইকিং করছি। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
এদিকে কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণ আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


