৪ মাস পর তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রথম জানাজা তেহরানে সম্পন্ন হয়েছে। দেশটিতে ৯ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে) তেহরানের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই শিয়া ধর্মীয় নেতার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন প্রখ্যাত শিয়া মারজা ও ধর্মীয় পণ্ডিত আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি। এর আগে গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তাঁর পিতার জানাজা পড়াবেন না। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকেই তেহরান মসজিদ ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
৪ মাস পর দাফন ও ৯ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক:
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন দেশটির এই শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা। দীর্ঘ চার মাস পর তাঁর মরদেহ দাফনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইরান সরকার।
এই উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিশাল শোক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা:
জানাজার আগে, গত শুক্রবার থেকে তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ বিশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়েছিল। সেখানে গত দুদিনে লাখো সাধারণ ইরানি নাগরিক ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং তাঁদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানের এই প্রথম জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান কোম, এবং পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মভূমি মাশহাদে চূড়ান্ত দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।


